সংবাদ/বিবৃতি

The superiority of Muslims remain in” establishing truth and resisting against injustice”. It is a holy duty for a Muslim to do this work with his/her level best . Especially, students are perfect soldiers for this work. That is why, students are active and effective manpower of a country and a nation.

ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের অগ্নিপরীক্ষা

হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, বিপদ ও পরীক্ষা যত কঠিন হবে তার প্রতিদানও তত মূল্যবান (তবে বিপদে ধৈর্যহারা হয়ে হক পথ থেকে বিচ্যুত না হওয়ার শর্তে) আর আল্লাহ তা’য়ালা যখন কোন জাতিকে ভালবাসেন তখন অধিক যাচাই ও সংশোধনের জন্য তাদেরকে বিপদ মুসিবত ও পরীক্ষার সম্মুখীন করেন। অতপর যারা আল্লাহর সিদ্ধান্তকে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেয় এবং ধৈর্যধারণ করে, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হন, আর এ বিপদ ও পরীক্ষায় যারা আল্লাহর উপর অসন্তুষ্ট হয় আল্লাহও তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন। (তিরমিযী শরীফ)

রাবি পরিচিতি
হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. এর উপনাম ছিল আবু হামযা, আবু উমাইয়া, আবু উমামা এবং আবু উমায়মা। তার উপাধি ছিল “খাদেমুর-রাসূল” সা.। পিতার নাম, মালেক, মাতার নাম উম্মে সুলাইম বিনতে মেলহান রা.। মাত্র দশ বছর বয়সে তার মাতা তাকে রাসূলে আরাবী সা. এর খেদমতে পেশ করেন। পরবর্তী দশ বছর তিনি খাদেমুর-রাসূল হিসেবে তার সাহচর্যে অতিবাহিত করেন। এটা হযরত আনাস রা. এর প্রতি আল্লাহ তায়ালার এক অপার দয়া। আর কোন সাহাবী এত অধিক সময় আল্লাহর রাসূল সা. এর খেদমতের সুযোগ প্রাপ্ত হননি। বয়সের স্বল্পতাবশত তিনি বদর ও ওহুদের যুদ্ধে অংশ নিতে পরেননি। তৎপরবর্তী সকল যুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং বীরত্বের পরিচয় দেন। হযরত আবু বকর রা. এর খেলাফত কালে তিনি বাহরাইনের আমেল ও গভর্নর নিযুক্ত হন।
হযরত ওমর রা.এর শাসন কালে তিনি বসরার মুফতির দায়িত্ব পালন করেন। বসরার জনসধারণকে তিনি ইলমে হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের তালিম দিতেন।
হযরত আনাস রা. ছিলেন হাদীসের একনিষ্ঠ খাদেম। আল্লামা আইনী রহ. এর মতে, তাঁর বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা (১২৮৬) এক হাজার দুইশত ছিয়াশি। তবে ইমাম বোখারী ও ইমাম মুসলিম রহ. তাঁর সনদে যৌথভাবে (১৬৮) একশত আটষট্টি খানা হাদীস রিওয়ায়েত করেছেন। হযরত আনাস রা. এর মাতা উম্মে সুলাইম রা. রাসূলে করীম সা. এর নিকট ছেলের ধন-সম্পদ সন্তানাদি, দীর্ঘ হায়াত ও জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য দোয়া করতে বললে তিনি দু’আ করেন। আল্লাহ তা‘য়ালা এ দু‘আর বরকতে তাঁকে দীর্ঘ হায়াত, বহুসম্পদ ও দু’কন্যাসহ ১০০ সন্তানের জনক করেছিলেন। হযরত আনাস রা. ১১০ বছর বয়সে বসরা নগরীতে ইন্তেকাল করেন। তার থেকে ইমাম যুহরী কাতাদা, ইসহাক প্রমুখ মনীষীগণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

গ্রন্থ পরিচিতি
জামেআত-তিরমিযী গ্রন্থটি প্রণয়ন করেন আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরাতা ইবনে মুসাআত-তিরমিযী। তিনি জীহুন নদীর তীরের তিবমিয় নামক শহরে ২০৯ হিজরী সনে জন্ম গ্রহণ করেন। বাল্যকালেই তিনি মহাগ্রন্থ আল কুরআনের হিফ্জ সমাপন করেন। অতপর তিনি হাদীস শিক্ষা ও সংগ্রহের জন্য কুফা, বসরা, খুরাসান, ইরাক ও হিজাজের বড় বড় মুহাদ্দিসগণের কাছ থেকে হাদীস শ্রবণ ও সংগ্রহ করেন। তীক্ষ্ন স্মরণ শক্তির অধিকারী এ মহান পুরুষ ইমাম বুখারী রহ. এর স্নেহভাজন ছাত্র ছিলেন। হাদীস গ্রন্থ রচনায় তিনি ভাষা পাণ্ডিত্য, সংকলনের কলাকৌশল, মাসয়ালা-মাসায়েলের বিন্যাসে এক অভিনব পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। যাকে মুহাদ্দিসীনের পরিভাষায় জামে বলে।

হাদিসের ব্যাখ্যা
চিরন্তন কালের পরিক্রমায় আল্লাহ তা’য়ালা যুগে যুগে নবীরাসূলগণকে পরীক্ষা করেছেন, উত্তীর্ণকে পুরস্কৃত করেছেন অনুত্তীর্ণকে করেছেন ক্ষমা(আল্লাহকে রব মেনে অনুতাপের শর্তে)। আলোচ্য হাদীসে রাসূলে আরাবী সা.দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত আল্লাহর বান্দাদের অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই এ পরীক্ষার সূচনা। বান্দাকে খলিফাতুল্লাহ হিসাবে দুনিয়ায় পাঠানোর প্রারম্ভিক কার্যক্রম শুরু হলো এবং পরীক্ষার মাধ্যমেই আল্লাহ তা’য়ালা তার সূচনা করলেন।

ইন্নিজাইলুন ফিল আরদি খালিফাÑ এ আয়াত প্রমাণ করে হযরত আদম আ. কে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিই করেছেন দুনিয়ায় প্রেরণের উদ্দেশ্যে। তদুপরি আল্লাহ তা’য়ালা জান্নাতে রেখেই তার বান্দা-বান্দিকে পরীক্ষার সম্মুখীন করলেন। ঘোষণা করলেন (ওলা-তাকরবা হাজিহিস সাজারতা ফাতাকুনা মিনাজজোলিমিন) তোমরা এই বৃক্ষটির নিকটবর্তীও হবে না। অতপর যদি তোমরা তার নিকটবর্তী হও তোমরা জালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” এ পরীক্ষায় হযরত আদম ও হাওয়া আ. শয়তানের ধোঁকায় পড়লেন। তবে তিনি পরম সফলতার স্বাক্ষর রাখলেন আপন কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতাপ প্রকাশে, আপন ভুলের স্বীকারোক্তিতে শত মুসিবতে আল্লাহর দিকে মুতাওয়াজ্জো থাকায়। আপন দুর্ভাগ্য থেকে মুক্তি, নব সুন্দর জীবন, উষর মরুময় পৃথিবীতে আপন সঙ্গিনীকে ফিরে পাওয়া, ভবিষ্যতের জীবন কোন ক্ষেত্রের এক আল্লাহ বিহীন কারও প্রতি আশা বা ভরসা প্রকাশ করেননি। ফলে এ অকৃতকার্যতাকে কৃতকাযর্তার চেয়েও বেশি সম্মানিত করেছে বারে এলাহির দরবারে। আজ তিনি আমাদের আদিপিতা। আর শয়তান-লানাতুল্লাহ।

আল্লাহ পরীক্ষা করেছেন নূহ আ. কে। হযরত ইবরাহীম আ. এর উপর নিজেকে দ্বীনের জন্য আগুনে সমর্পণ, সন্তান কুরবানিসহ কত শত পরীক্ষা নেমে এসেছে। মুসা আ. মোকাবেলা করেছেন ফেরাউনের মতো এক অবাধ্য যালিমকে যে ছিল নিজেকে খোদা বলে দাবি করা প্রবল পরাক্রম বাদশাহ। পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছেন আপন অবাধ্য কওমকে নিয়েও। হযরত সুলাইমান আ. মুকাবেলা করেছেন অবাধ্য জ্বীন ও মানব সম্প্রদায়ের ।
(চলবে ইনশাআল্লাহ)

সম্পর্কিত কার্যক্রম

সম্পর্কিত কার্যক্রম

সদস্য ফরম

নিচে তথ্যগুলো দিয়ে পাঠিয়ে দিন